Thu. Jun 23rd, 2022

রান্নাঘরের সবথেকে প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হচ্ছে লবণ। লবণ ছাড়া রান্না করার কথা গৃহিণীরা চিন্তাই করতে পারেন না। লবণ ছাড়া কোনো খাবারেই স্বাদ আসে না, আবার বেশি হয়ে গেলেও সেই খাবার খাওয়া দায়। তাই এটি ব্যবহার করতে হয় বুঝেশুনে।

জানেন কি, কেবল রান্নার স্বাদ বাড়াতেই নয়, গৃহস্থলীর আরো অনেক কাজে লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক লবণের এমন কিছু ব্যবহার সম্পর্কে যেগুলো একেবারেই অজানা-

>> বেশ কয়েক বার ধোয়ার পর ডেনিম জিন্সের রং তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারাতে পারে। একটি বালতিতে পানি ও লবণ মিশিয়ে তাতে ডেনিম ভিজিয়ে রাখুন। ডেনিমের উজ্জ্বল রং ফিরে পাবেন।

>> চা-কফির কাপ নিয়মিত পরিষ্কার করার পরেও দাগ থেকে যায়? এক্ষেত্রে সেই কাপে ঈষদুষ্ণ লবণ পানি ঢেলে কিছুক্ষণ রেখে তার পর ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন দাগ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

>> ফুলদানিতে কৃত্রিম ফুল রেখেছেন? তবে কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেই ফুলের উপর ধুলোর স্তর জমে যায়। এই ফুলগুলো পরিষ্কার করতেও লবণ ব্যবহার করতে পারেন। একটি ঝোলা ব্যাগে বেশ খানিকটা লবণ ও কৃত্রিম ফুল নিয়ে ভালো করে ঝাঁকান। এবার বের করে মুছে নিন, তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে ফুল।

>> ভাত রান্নার সময়ে ভাতের ফ্যান কিংবা দুধ জাল দেওয়ার সময় দুধ অনেক সময় অসতর্কতায় গ্যাস ওভেনের উপর পড়ে যায়। সেই দাগ বসে গেলে তুলতে কালঘাম ছুটে যায়। গ্যাসের উপর কিছু পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে লবণ ছড়িয়ে দিন। এক্ষেত্রে দাগ বসবে না, সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

>> রান্না করার পর হাত থেকে পেঁয়াজ-রসুন, মাছ-মাংসের আঁশটে গন্ধ থেকেই যায়। সাবানের ব্যবহারেও সেই দুর্গন্ধ যেতে চায় না। এক্ষেত্রে ভিনেগারে সামান্য লবণ মিশিয়ে তা আপনার হাতে ঘষুন। এতে হাতের গন্ধ দূর হবে।

>> ডিম সিদ্ধ করার পর অনেক সময় দেখা যায় দু’ একটা ডিম পচা। ডিম কিনে এনে রান্না করার আগেই যদি বুঝতে পারেন ডিমগুলো সব টাটকা কি না, তাহলে কেমন হয়? একটি গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে ২ টেবিল চামচ লবণ মেশান। এবার এই লবণ মেশানো পানিতে ডিমটি ডুবিয়ে দিন। ডিম ডুবে গেলে বুঝবেন ডিমটি ঠিক আছে। আর যদি ডিমটি ভেসে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ডিমটি পচা।

>> ব্যাগ কিংবা জুতা অনেক দিন ব্যবহার না করলে তার ভেতরে ভ্যাপসা গন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও লবণ ব্যবহার করতে পারেন। ব্যাগ এবং জুতার উপর ভেতর বেশ খানিকটা লবণ ছড়িয়ে সারা রাত রেখে দিন। পর দিন সকালে লবণ ঝেরে ফেলুন। দেখবেন দুর্গন্ধ চলে গিয়েছে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে লবণ বেড়েছেঃ

রান্নায় লবণ না দিলে খাবারের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। তাইতো প্রতিদিনের রান্নায় আমরা লবণ ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এর বাইরেও খাবারের সঙ্গে অনেকেই বাড়তি লবণ খেয়ে থাকেন। অর্থাৎ এমন অনেকেই আছেন যারা ভাত কিংবা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে কাঁচা লবণ খেয়ে থাকেন। অথচ এই সামান্য ভুল কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে তা অনেকেই জানেন না।

জেনে আশ্চর্য হবেন যে, একটু স্বাদ বাড়াতে গিয়ে আমরা নিজেদের ঠেলে দিচ্ছি হৃদরোগ, হাইপারটেনশন ও স্ট্রোকের মতো ঝুঁকিতে। শরীরে লবণের মাত্রা বেশি হলে শরীর তা আগে থেকেই কিছু সংকেত দেয়। এই সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে না পারলেই বিপদ। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক শরীরে লবণের মাত্রা বেড়েছে কিনা কোন কোন সংকেত বা লক্ষণ দেখে বুঝবেন-

অনবরত মাথাব্যথা

থেকে থেকে মাথা ব্যথা করাও শরীরে অতিরিক্ত লবণের কারণ। শরীরের আর কোনো সমস্যা না থাকলে এই অনবরত মাথা ব্যথা আপনার শরীরকে লবণের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে ধরে নিবেন।

পেট ফাঁপা

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের জন্য পেট ফেঁপে যেতে পারে। মনেহয় পেট খাবারে পূর্ণ, হাঁসফাঁস লাগে। একটু পানি খেলেও পেট ভরে ওঠে। এধরনের সমস্যা হলে বুঝেবেন শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

তীব্র ব্যথা

অতিরিক্ত লবণ হাড়েরও ক্ষতি করে। বিশেষত নারীদের হাড় ক্ষয়ের পেছনে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণই বেশি দায়ী। তাই হাড়ের ক্ষয়জনিত বা বিভিন্ন জয়েন্টে তীব্র ব্যথা হলে লবণের পরিমাণটা পরীক্ষা করে নিন।

স্বাদহীনতা

যতই লবণ দিচ্ছেন মনে হচ্ছে আরেকটু দেওয়া উচিৎ? বেশি লবণ খাওয়ার বড় একটা কুফল এটি। এতে করে পরে লবণ পরিমিত মাত্রায় খেলেও মনে হয় খাবারে মোটেও লবণ হয়নি। অর্থাৎ অতিরিক্ত লবণ আপনার স্বাদের অনুভূতিও বদলে দেয়।

পেশীর অস্বাভাবিকতা

শরীরে পানি পানি ভাব চলে আসা বা মাংশপেশীর অস্বাভাবিক ব্যথার জন্য অতিরিক্ত লবণও দায়ী। শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য ঠিক না থাকলেও ত্বক কুঁচকে আসে বা ফুলে ওঠে। তাই লক্ষ্য রাখুন, বিশেষ কোনও কারণ ছাড়াই মোটা হয়ে যাচ্ছে কিনা বা ত্বক কুঁচকে আসছে কিনা।

ঘন ঘন তৃষ্ণা

পরিমাণমতো পানি পানের পরও বার বার পিপাসা লাগে শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে। শরীরে থাকা বেশি সোডিয়াম তথা লবণটাই আপনার ভেতরকার তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারছে না। এটা পানিশূন্যতারও প্রাথমিক লক্ষণ। এমনটা দেখা দিলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ পরীক্ষা করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.